Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ, সাম্প্রদায়িক শব্দগুলোর ব্যবহার প্রয়োজন নেই: অর্থমন্ত্রী

admin

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৫৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ, সাম্প্রদায়িক শব্দগুলোর ব্যবহার প্রয়োজন নেই: অর্থমন্ত্রী

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

সমাজে ‘সংখ্যালঘু’, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ বা ‘সাম্প্রদায়িক’-এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এসব শব্দ ব্যবহার মানেই কোথাও বিভাজন বা সমস্যা রয়েছে- এমন ধারণা তৈরি করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সকল নাগরিকের মূল পরিচয় হওয়া উচিত সমান অধিকারসম্পন্ন বাংলাদেশি হিসেবে।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, তিনি ‘অসাম্প্রদায়িক’ শব্দটিকেও প্রয়োজনীয় মনে করেন না, কারণ দেশের সংবিধান সকল নাগরিককে সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। বৈচিত্র্যকে তিনি একটি রাষ্ট্রের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশকে একটি “রেইনবো নেশন” হিসেবে গড়ে তোলা উচিত, যেখানে নাগরিক পরিচয়ই সবার আগে, আর ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতি বৈচিত্র্যের মাধ্যমে সমাজকে সমৃদ্ধ করবে।

Manual6 Ad Code

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে মন্দির স্থাপনকে তিনি বৈচিত্র্যের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এটি “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি”-এর বাস্তব উদাহরণ। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশের সম্মিলিত উদ্যোগেই এমন কাজ সম্ভব হয়—বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জায়গা দিয়েছে এবং দাতারা অর্থায়ন করেছে, যা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

Manual2 Ad Code

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, এটি যেন একটি পাহাড়ি রিসোর্টের মতো মনে হয়েছে। এই পরিবেশ কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ক্যাম্পাস নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করা জরুরি। যে কোনো দল বা ধর্মের হোক, বাইরের লোকদের অবাধ প্রবেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

Manual1 Ad Code

এ সময় শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রস্তাব এলে সরকার সহযোগিতা করবে।

Manual6 Ad Code

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ অন্যান্যরা।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারী রয়েছেন। তাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রায় আট বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটে মন্দির নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়।

শেয়ার করুন