Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারে ধান রক্ষায় কৃষকদের প্রাণপণ চেষ্টা

admin

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ | ০৬:৪৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০২ মে ২০২৬ | ০৬:৪৪ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
বিয়ানীবাজারে ধান রক্ষায় কৃষকদের প্রাণপণ চেষ্টা

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে বিয়ানীবাজার উপজেলার অনেকাংশে তলিয়ে গেছে বোরো ধান। চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়া ধান দেখে চলছে কৃষক পরিবারে বোবাকান্না।

Manual1 Ad Code

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৪ হেক্টর জমির বোরো আবাদ তলিয়ে গেছে। আরোও বেশ কিছু জমি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। উপজেলার মুড়িয়া হাওরের বড় বিল, পৌরসভা, মাথিউরা এবং তিলপারা এলাকার কিছু বোরো ধানও তলিয়ে গেছে।

Manual2 Ad Code

মুড়িয়া হাওরের কৃষক আমজদ আলী বলেন, অতিবৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আমার পাকা ধান তলিয়ে যায়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। শুধু আমজদ আলী নয়, মুড়িয়া হাওর এলাকার কৃষকদের এই বোবাকান্না শোনার কেউ নেই। কেউ ধান হারিয়ে কাঁদছেন আবার কেউবা অবশিষ্ট ধান রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুরো হাওর জুড়েই সুনসান নীরবতা। কেউ ধান হারিয়ে কাঁদছেন আবার কেউবা শ্রমিক সংকটে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অবশিষ্ট ধান রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষক আবুল মিয়া বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে ধানের চাষাবাদ করেছিলাম। অথচ ধানগুলো ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেলো। হাওরে যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে হয়ত আমাদের ক্ষতি হতো না। এখন কান্না ছাড়া কৃষকদের আর কিছু করার নেই।’

Manual5 Ad Code

হাসান আলী বলেন, ‘হাওরের কৃষকদের চোখের জলের কোনো মূল্য নেই। একমাত্র ফসল হারিয়ে কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে।’

কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘অনেক কৃষকের ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়েছে। তবে যে অবশিষ্ট ধান রয়েছে সেগুলোও কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছি না। তাই তলিয়ে যাওয়ার আগেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে
দ্রুত কাটার চেষ্টা করছি।’

Manual4 Ad Code

অপর কৃষক কবির মিয়া বলেন, ‘বজ্রপাতের আতঙ্কে শ্রমিকরা হাওরে ধান কাটছে না। অন্যদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই বজ্রপাতের ভয় না পেয়ে নিজেই পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে হাওরে ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছি।’

বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান আরোও বলেন, এরই মধ্যে হাওরে ধান কাটার জন্য কৃষকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট নিরসনেও বাইরে থেকে শ্রমিক নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। সেইসঙ্গে ধান কেটে উঁচু স্থানে রাখার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করছি। সেগুলো উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

শেয়ার করুন