Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার ফের প্রকাশ্যে গণনা হবে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা

admin

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:০২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:০২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
শনিবার ফের প্রকাশ্যে গণনা হবে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শনিবার ফের প্রকাশ্যে গণনা হবে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা। এনিয়ে চতুর্থবারের এই মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় এ গণনা শুরু হবে।

Manual1 Ad Code

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই গণনার কাজ শুরু হবে।

এর আগে তিন দফায় মাজারের দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়েছে। গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর ১৮ দিন পর দ্বিতীয় দফায়, ১১ জুলাই দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণ-রূপাও পাওয়া যায়।

সবশেষ গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়।

Manual7 Ad Code

সে হিসেবে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা পাওয়া গেছে। যা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চালু করা ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিবারের মতো এবারও নির্ধারিত নিয়ম মেনে গণনার কাজ সম্পন্ন করে বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হবে।

Manual1 Ad Code

জানা যায়, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একপাক্ষিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। দানবাক্স ও ডেগ সিলগালার পর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের পক্ষে-বিপক্ষে সিলেটজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এক পক্ষের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসক কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে আরেক পক্ষের অভিযোগ, মাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার নামে তার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ছিল একতরফা ও জোরপূর্বক, যা মাজারকেন্দ্রিক প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়।

মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ ও এ নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে কমিটি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ দেবে বলে সেদিন জানানো হয়েছিল। তবে আড়াই মাসেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি।

শেয়ার করুন