Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারাগারে বিয়ে, এলাকায় চাঞ্চল্য

admin

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ০৭:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ০৭:২৯ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
কারাগারে বিয়ে, এলাকায় চাঞ্চল্য

Manual3 Ad Code

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার কারাগারে এক অভিনব বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার হাজতীর সাথে এই মামলার ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। বিয়েতে ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

এ সময় জেল সুপার, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিসহ উভয় পক্ষের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Manual5 Ad Code

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এই বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিয়ের বর কমলগঞ্জ উপজেলার সতীঝিরগাঁও-এর ছমির আলীর ছেলে রায়হান হোসেন। ২০২২ সালের মে মাস থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে বিচারাধীন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি। আর কনে একই মামলার ভুক্তভোগী।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে ভিকটিম ও উভয় পরিবারের সম্মতিতে ইসলামী শরীয়া মতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মলি আক্তার গনমাধ্যমকে জানান, আমি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে এসেছি। এখানে জেল সুপারসহ অন্যান্য প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি তারা ভবিষ্যতে সুখী হবে, ভালো থাকবে। যেহেতু, মামলাটি এখনো বিচারাধীন আছে এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত থেকে পাওয়া যাবে।

বিয়ের ব্যাপারে ভুক্তভোগী কনে জানান, আমাকে জোর করে অপহরণ করে ধর্ষণ করে। এর বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু হয়। মামলা দায়েরের পর দুই পরিবারের আলোচনার মাধ্যমে আমি এ বিয়েতে সম্মতি জানাই। তখন মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে আমাদের বিয়ে হয়। এখন সবার কাছ একটাই চাওয়া যেন আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখী হয়।

জেল সুপার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার গনমাধ্যমকে জানান, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে আসামী মো. রায়হান এর সঙ্গে ভিকটিমের আনুষ্ঠানিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে জেলা কারাগারে। এসময় হাজতীর মা ও দুই চাচা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়েছে।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, ওয়ারেন্ট সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি এটা নারী ও শিশু ও নির্যাতন মামলা। আসামী রায়হান ২০২২ সালের ২২ মে থেকে আমাদের কারাগারে আছেন। অবশেষে আদালত যে রায় দিয়েছেন আমরা এতে ধন্যবাদ জানাই। এতে করে দুইটি মানুষের জীবন রক্ষা হয়েছে। নয়তো আসামীর জীবন জেলেই কেটে যেতো। মেয়েটির জীবনেও নানা ধরনের সমস্যা হয়েছে। এখন মেয়েও ছেলেকে গ্রহণ করেছে, ছেলেও মেয়েকে গ্রহণ করেছে। এতে আমরা শুকরিয়া জানাই। এখন তাড়াতাড়ি যেন মামলাটির নিষ্পত্তি হয় সেজন্য আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবো।

Manual1 Ad Code

শেয়ার করুন