Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন সরকারের কাছে কী চান সিলেটবাসী?

admin

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০২:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০২:৩২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
নতুন সরকারের কাছে কী চান সিলেটবাসী?

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual3 Ad Code

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিলেটের উন্নয়নের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেটে যতবার সমাবেশ করেছেন ততবারই সিলেটবাসীকে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কিন্তু গেল ১৫ বছরে সিলেটে উন্নয়নের চেয়ে বঞ্চনার ইতিহাস দীর্ঘ হয়েছে। দৃশ্যমান উন্নয়নের চেয়ে মেগাপ্রকল্পের গল্পই ছিল বেশি।

Manual3 Ad Code

নতুন সরকারের কাছ থেকে আগের মতো আশ্বাস বা গল্প নয় দৃশ্যমান উন্নয়ন চান সিলেটবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ঝুলে থাকা মেগাপ্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন উন্নয়ন উপহার দিবেন বঞ্চিত সিলেটবাসীকে। আর এই উন্নয়নযজ্ঞে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন সিলেট থেকে মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়া খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী। আওয়ামী লীগ শাসনামলে কয়েকবার সিলেট সফরে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর বেশিরভাগ সফরকালে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজন করা হয় জনসভার। প্রতিবারই জনসভায় তিনি সিলেটবাসীকে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখান। জনসভায় দাঁড়িয়ে একাধিকবার ঘোষণা দেন ‘সিলেটবাসীকে উন্নয়নের দাবি করতে হবে না। সিলেটের উন্নয়নের দায়িত্ব আমার’। কিন্তু গত ১৫ বছর শেখ হাসিনার সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে পাননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আবুল মাল আবদুল মুহিত। মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি সিলেট-ঢাকা চারলেন মহাসড়ক, সিলেট-আখাউড়া ডাবল লাইন রেলপথ, ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েকটি মেগাপ্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। আবুল মাল আবদুল মুহিত পরপর দুইবার অর্থমন্ত্রী ও পরবর্তীতে তাঁর ছোটভাই ড. এ কে আবদুল মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেও সিলেটবাসী কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হন। আবুল মাল আব্দুল মুহিতের নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলো এখনো শেষ হয়নি। সিলেট-ঢাকা চারলেন (সার্ভিস লেনসহ ৬ লেন) মহাসড়কের কাজ শুরু করতে করতে পার হয়ে যায় আবুল মাল আবদুল মুহিতের মেয়াদ। আর ড. মোমেনের সময় কাজ শুরু হলেও তা এখনো চলছে ঢিমেতালে। মহাসড়কে উন্নয়ন ভোগান্তিতে প্রতিদিন নাজেহাল হতে হচ্ছে সিলেটবাসীকে।

Manual2 Ad Code

ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কাজও থমকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। নকশায় ত্রুটির অজুহাত দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ। আর সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডাবল লাইনের প্রকল্পটি আলোর মুখই দেখেনি।

Manual7 Ad Code

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিলেট বিভাগের মানুষ বিএনপির পক্ষে ভূমিধস রায় দিয়েছেন। বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিজয়ী হয়েছে ধানের শীষ। তাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে সিলেটবাসীর প্রত্যাশাও বিস্তৃত হয়েছে। সিলেটের ‘দামান্দ’ তারেক রহমান শ্বশুরবাড়ির উন্নয়নে আন্তরিক ভূমিকা পালন করবেন এমন প্রত্যাশা করছেন তারা। বর্তমান সরকারের আমলেই দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনার আক্ষেপ ঘুচাবে বলে মনে করছেন সিলেটবাসী।

এ প্রসঙ্গে এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ-আটাব সিলেটের সাবেক সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল বলেন, ‘সিলেটবাসী দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্খিত উন্নয়নবঞ্চিত। সিলেটে কোন মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু হলেই রহস্যজনক কারণে তা থমকে যায়। দিন যায়, প্রকল্প কাটছাট হয়, ব্যয় বাড়ে- কিন্তু কাজ হয় না। আমরা আশাবাদী এই সরকারে সিলেটবাসী যে দুই মন্ত্রী পেয়েছেন তাদের মাধ্যমে আমরা কাঙ্খিত উন্নয়ন পাব।’

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ই ইউ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়নের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সিলেটবাসী বঞ্চনার শিকার হয়েছে। সারা দেশের তুলনায় সিলেট উন্নয়নে পিছিয়ে। আমরা ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা আশা করছি সিলেটের দুই মন্ত্রী স্থানীয়ভাবে যে ইশতেহার দিয়েছিলেন তা শতভাগ বাস্তবায়ন করবেন।’

নাগরিক সমাজের এই প্রতিনিধি আরও বলেন, ‘সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনের যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে তা মূলত ভারতের স্বার্থেই। এটা ভারতমুখী না করে গণমুখী করা প্রয়োজন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সিলেট শহর পর্যন্ত এবং সুতারকান্দি সড়ক বিয়ানীবাজার পর্যন্ত তৈরি করা প্রয়োজন। এছাড়া ওসমানী বিমানবন্দর ও শমসেরনগর বিমানবন্দর আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। নতুন সরকারের আমলেই ওসমানী থেকে বিদেশি উড়োজাহাজ ওঠানামা করবে এবং শমসেরনগর বিমানবন্দরকে কার্গো বিমান ওঠানামার উপযোগী করা হবে বলে আমরা আশাবাদী। সিলেট-আখাউড়া রেল লাইন ডাবল এবং রেল নেটওয়ার্ক সিলেট-ছাতক-সুনামগঞ্জ, কুলাউড়া-শাহবাজপুর-বিয়ানীবাজার ও শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ বিস্তৃত করা উচিত।’

শেয়ার করুন