Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ সময়ের প্রচারণায় উৎসবমুখর সিলেট

admin

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
শেষ সময়ের প্রচারণায় উৎসবমুখর সিলেট

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual2 Ad Code

সিলেট-১ আসনে জমে ওঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। সব দলের প্রার্থীরা নিজেদের সবটুকু দিয়ে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে ভোটারদের মন পাওযার। সিলেট-১আসনকে বলা হয় মর্যাদার আসন। এ আসন নিয়ে রাজনীতিতে প্রচলিত একটি মিথও আছে। বলা হয়ে থাকে, ‘সিলেট-১ আসন যার- সরকার তার’। মিথকে ধারন করে বিভিন্ন ধরনের প্রচার -প্রচারনা, সভা-সমাবেশে, গণসংযোগের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচনি এলাকার পরিবেশ এখন উৎসবমূখর।

সারেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত অব্দি নগর, হাট-বাজার, গ্রাম কিংবা পাড়া-মহল্লাগুলোতে চলছে এ উৎসবের আমেজ । বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের গুণ-কীর্তনে, মাইক বাজিয়ে বাউলদের কথা ও সুরে, ডিজে গানে, কিংবা নেতাকর্মীদের পাড়ায় পাড়ায় প্রচার মহড়া, উঠোন বৈঠক, মিলে সব এলাকাতেই যেন এক অন্য রকম রমরমা পরিবেশ। প্রার্থী ও ভোটারের উচ্ছাসে নির্বাচনী এলাকাকার সব জনপদেই সরগম।

Manual7 Ad Code

প্রার্থীরা তাদের নিজ দলের ইশতেহারের সাথে নিজেদের দল ও ব্যাক্তি পর্যায়ের অতীত অবদান তুলে ধরা সহ ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা সহ যে যার মতো সর্বোচ্চ কায়দায় নিজের সাথে নিজের দলকে তুলে ধরা সবটুকু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, মআইটি বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরন, সিলেটকে দেশের অন্যতম নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ বিভিন্ন খাল নদী খননসহ প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ট ব্যাবহার সহ বিভিন্ন প্রত্যয় নিয়ে আমি জনগনকে সাথে নিয়ে আশাবাদী।

Manual8 Ad Code

বাংলাদেশ সামাজতান্ত্রিক দলের সঞ্জয় কান্তি দাস বলেন, ‘ দেশের বিভিন্ন ক্লান্তিলগ্নে বহুদিন যাবৎ কাজ করে যাচ্ছি, তবে নির্বাচনি পার্থী হিসাবে এটি আমার প্রথম নির্বাচন। আমি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ওই এলাকার জনগনের সমস্যা জানার চেষ্টা করছি । জনগন আমাকে নির্বাচিব করলে আমি তাদের সমস্যা নিয়ে নিজের সবটুকু দিয়ে কাজ করবো ।

উল্লেখ্য, ‘সিলেট-১ আসন যার- সরকার তার’ এ মিথকে একদম ফেলে দেওয়াও যায় না। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সব কটি জাতীয় নির্বাচনের জয় পরাজয়েরে অংকও যেন বাই বলে যায়। তাই, ভোটের মাঠে হযরত শাহজালাল (রহ:) ও হযরত শাহপরাণ (রহ:)সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত পূণ্যভূমির এই আসনটি সব দলেরই কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার গঠন করার বিষয়টি মাথায় রেখে মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় শক্তিশালী প্রার্থীকে । এ বছরও মিথকে মাথায় রেখে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াত ইসলাম সহ সব দলই তাদের শক্তিশালী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে ।

Manual3 Ad Code

বিএনপি ও জামায়াত ইসলাম ছাড়াও সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আনোয়ার হোসেন,বাসদের প্রণ জ্যোতি পাল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া, গণ অধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান, বাংলাদেশ সামাজতান্ত্রিক দলের সঞ্জয় কান্তি দাস।

বিগত সময়ের তথ্য খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় যে, ১৯৭৩ সাল থেকে মিথ প্রচলিত হলে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার সূত্রপাত হয় আশির দশকে জাতীয় নির্বাচন থেকে। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলের ১৯টি আসনের মধ্যে শুধু সিলেট-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মালিক। বিএনপিই সরকার গঠন করে। এরপর স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান, দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নির্বাচন করে বিজয়ী হন। সরকার গঠন করে যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ২০১৮ সালে এ আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন মুহিতের ছোট ভাই ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিলেট-১ আসনে একতরফা নির্বাচনে এ কে আব্দুল মোমেন জয়ী হন। তখনো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে আছে বিএনপি-জামায়াত। সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দলটির বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে আছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দল জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

শেয়ার করুন