Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে পুলিশের ঘাম ঝরাচ্ছে ওরা ৬ জন!

admin

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে পুলিশের ঘাম ঝরাচ্ছে ওরা ৬ জন!

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

ছিনতাইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভিডিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে সাইবার জগতে। মুখমন্ডল, শারীরিক গঠন ও মোটরসাইকেলের ধরণও বুঝা যাচ্ছে। এরপরেও ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশের ঘাম ঝরছে।

 

অথচ সিলেট মহানগর এলাকা প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে সেই প্রযুক্তির কল্যাণ, এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ্যে দিনদুপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাত্রী ইয়াসমিন আক্তারের কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারী গ্রুপটি।

 

শুধু এ ঘটনাই নয়, এভাবে প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে এই নগরীতে। কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে আসলেও অধিকাংশ থানা পুলিশের ভয়ে থেকে যায় আড়ালে।

হাউজিং এস্টেটের ঘটনায় তিনদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশী কার্যক্রম শুধুই ‘তদন্ত আর খতিয়ে’ দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

 

ছিনতাইকারীদের শনাক্ত আর তাদেরকে ধরতে পারার বিষয়টি একেবারেই গতিহীন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সবচেয়ে নাজুক অবস্থা দেখা দিয়েছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে। এ সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধীরা। কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে নাজেহাল হয়ে গেছে পুলিশ। হঠাৎ করে  সিলেটে ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় নগরবাসী।

একটি সূত্র জানায়, হাউজিংএস্টেট এলাকায় যারা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা একাজে খুবই দক্ষ ও চৌকস। তাদের নিজস্ব কিছু লোকজনকে দিয়ে ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের উপর নজরদারি রাখে। গ্রীন সিগন্যাল আসলেই তারা মোটরসাইকেল নিয়ে মাঠে নেমে যায়।

সিলেটে এ পর্যন্ত যতটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে তা মোটরসাইকেল দিয়েই। অধিকাংশ ছিনতাইকারী ভূল নম্বর ব্যবহার করে ছিনতাই করতে মাঠে নামে। হাইজিংএস্টেটের ঘটনায় চৌকস ছিনতাইকারীরা ইয়াসমিন আক্তারের টাকা নিলেও আইফোন ও এটিএম কার্ড একটি রেস্টুরেন্টের সামনে রেখে যায় ছিনতাইকারীরা।

 

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, হাউজিং এস্টেটের ভেতরের সড়ক দিয়ে একটি অটোরিকশা যাচ্ছিলো। তিনটি মোটর সাইকেলে এসে ৬ জন লোক ওই অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর একজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে অটিরিকশার ভেতরে থাকা ব্যাগ ধরে টানাটানি করে। কিছুক্ষণ টানাহ্যাঁচড়ার পর ব্যাগটি নিজের আয়ত্বে নিয়ে মোটর সাইকেল আরোহীরা চলে যায়।

Manual6 Ad Code

 

এসময় অটোরিকশা থেকে নেমে এক নারীকে চিৎকার করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় ইয়াসমিন আক্তার সাধারণ ডায়রি করেন।

 

ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, কর পরিদর্শক ইয়াছমিন আক্তার অফিস থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। ৬ জন ছিনতাইকারী সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে যায়। যাতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মতো ছিলো। ছিনতাইকারীরা টাকা ও স্বাক্ষর করা চেক বইয়ের কয়েকটি পাতা নিয়ে যায়।

 

Manual1 Ad Code

তবে, আইফোন ও এটিএম কার্ড তারা পার্শ্ববর্তী জান্নাত রেস্টুরেন্টের সামনে রেখে যায়।

 

এ ব্যাপারে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. মোবাশ্বির বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের ধরতে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

 

এদিকে, আম্বরখানা সুবিদবাজার এলাকায় সংঘটিত গত বছরের দু’টি ছিনতাইর ঘটনা ব্যাপক আলোচিত ছিল।

 

জানা যায়, ওই বছরের ৭ জুলাই এয়ারপোর্ট সড়ক থেকে দুই ছিনতাইকারীকে স্থানীয় লোকজন আটক করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।

 

আটক ছিনতাইকারীরা হচ্ছে, জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জের আব্দুল হকের পুত্র সাইফুল ইসলাম (২৫) ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের গৌরিনগরের জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র লিমন আহমদ জয় (২৬)।

Manual8 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

এর মধ্যে সাইফুল ইসলাম নগরের সেনপাড়া আর লিমন নগরীর সুবিদবাজার এলাকায় বসবাস করছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, কামাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারে তুলে এয়ারপোর্টের দিকে নিয়ে চলে যায়।

প্রথমে ছিনতাইকারীরা অপহৃত কামালকে হাউজিং এস্টেটের ৮নং লেনে নামিয়ে দেবে বললেও পরবর্তীতে এয়ারপোর্টের দিকে নিয়ে যায় এবং তার সাথে থাকা স্মার্ট ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

 

কামালকে এয়ারপোর্ট হয়ে বাইশটিলার দিকে নিয়ে যাবার সময় প্রাইভেট কারে থেকে চিৎকার করতে থাকেন তিনি। গ্র্যান্ড সিলেটের সামনে আসার পরে কামাল প্রাইভেট কারের জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সাইফুল ও লিমনকে হাতে নাতে আটক করেন।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় কামাল বাদী হয়ে ৩০ জুলাই মামলা দায়ের করেন।

 

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিধান দেব জানিয়েছেন, চার ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বর মাসে এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।

 

এর আগে ওই বছরেরই ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় সুবিদবাজার পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুরের ব্যবসায়ী ছালিক আহমদকে ধারালো অস্ত্রের মুখে প্রকাশ্যে জোরপূর্বক একটি সিএনজি অটোরিকশায় অপহরণ করে ফাজিলচিশত গলির ভেতরে নিয়ে যায়। ছালিক অপহরণের বিষয়টি তখন আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি অটোরিকশার চালকরা কেবল ফেলফেল করে দেখছিলেন। গলির ভেতরে টানা একঘন্টা তাকে নির্যাতন করে তার পরিবারের সাথে কথা বলায়। অপহরণকারীরা সাফ বলে দেয়, টাকা না দিলে ছালিককে ছাড়া হবে না।

 

জীবন রক্ষায় ছালিকের স্বজনরা এক ঘণ্টার মধ্যে বিকাশে করে এক লাখ টাকা অপহরণকারীদের দেয়া চারটি নম্বরে পাঠিয়ে রক্ষা পেয়েছিলেন।

শেয়ার করুন