Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব অধ্যাদেশের বৈধতা দেওয়া জরুরি

admin

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ | ০২:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ | ০২:০৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব অধ্যাদেশের বৈধতা দেওয়া জরুরি

Manual6 Ad Code

 

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে।

সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশগুলোকে বৈধতা দিতে হলে সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে আইনে রূপান্তর করতে হবে। তা না হলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

Manual1 Ad Code

সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি বাদে বাকিগুলো আইনে রূপান্তরের জন্য সংসদে উত্থাপনই করবে না বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এ ক্ষেত্রে যুক্তি হিসেবে সময়সংকটকে সামনে আনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস মেয়াদে তাড়াহুড়া করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সেই হিসাবে গড়ে চার দিনে একটি করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সংসদে ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে হলে বর্তমান সরকারকে দিনে গড়ে সাড়ে চারটি করে অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করতে হবে।

Manual3 Ad Code

প্রশ্ন হলো, আসলেই কি পরিস্থিতি এ রকম, নাকি অধ্যাদেশের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রথমেই যে বিষয়টা খেয়াল করতে হবে, তা হলো অধ্যাদেশগুলো সব একরকম নয়, অধ্যাদেশগুলোর ব্যাপ্তি ও গভীরতাও সমান নয়। সে সময় এ রকম অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যেগুলো খুবই সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট। এর অনেকগুলোই জারি করা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা কিংবা আন্দোলনের দাবিদাওয়া বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে।

Manual5 Ad Code

যেমন ২০২৪ সালে জারি করা ১৭টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৪টি অধ্যাদেশ জারি করা হয় বিশেষ পরিস্থিতিতে জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ ও বিকল্প প্রশাসক নিয়োগের জন্য, দুটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় শেখ পরিবারের নিরাপত্তাব্যবস্থা বাতিল ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে এসএসএফের নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসতে, একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের নাম থেকে শেখ হাসিনার নাম বাদ দিতে।

একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অপসারণ ও নিয়োগের উদ্দেশ্যে, একটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বয়সসীমা তুলে দিতে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর নির্ধারণ করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। আবার দায়মুক্তির আইন নামে পরিচিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ ও গণশুনানি ছাড়াই জ্বালানির দাম সমন্বয়ের বিধান বাতিলে একটি করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

এই অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ার কথা নয়। এখানে কিছু অধ্যাদেশ আছে, যেগুলো অন্তর্বর্তী সরকার বিলুপ্ত হওয়ার কারণে আর প্রয়োজনীয় নয়। কিন্তু কিছু অধ্যাদেশ আছে, যেগুলো খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ।

দায়মুক্তি আইন ও গণশুনানি ছাড়াই জ্বালানির দাম নির্ধারণের বিধান বাতিল করার অধ্যাদেশ যার উদাহরণ। এখন নির্বাচিত সরকার যদি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এই অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে অনুমোদন না করে, তাহলে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করা আইনগুলো পুনরুজ্জীবিত হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

Manual3 Ad Code

শেয়ার করুন