Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি নিরাপত্তা যখন অধিক জরুরি

admin

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ | ০১:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ | ০১:১৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
জ্বালানি নিরাপত্তা যখন অধিক জরুরি

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার: 

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলার ছাড়ালেও এর পরদিন এটা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার খবর মিলল। এর প্রধান কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কণ্ঠে দ্রুতই যুদ্ধ শেষ করে আনার ইঙ্গিতবাহী বক্তব্য। ইসরায়েলের অবস্থান অবশ্য জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল তো সম্মিলিতভাবে হামলা চালিয়েছিল ইরানে। অনেকে বলেন, ইসরায়েল- পরিকল্পিত যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন ট্রাম্প। সৌদি আরবের মতো কোনো কোনো দেশও তাঁকে রাজি করিয়েছিল বলে ধারণা। যাই হোক, ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে যুদ্ধে ‘সাফল্য’ দাবি করেছেন। এতেও ধারণা জন্মেছে, যুদ্ধটা বেশিদিন চালানো হবে না।

Manual4 Ad Code

এদিকে ইরান বলছে, যুদ্ধ শেষের সময় নির্ধারণ করবে তারা। যুদ্ধে দেশটি বিপর্যস্ত হলেও ক্লান্ত হয়নি। শুরু থেকে তার ওপর রীতিমতো যুদ্ধাপরাধ হলেও অক্লান্তভাবে পাল্টা হামলা চালিয়ে এবং শেষে নতুন নেতা নির্বাচন করে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা পর্যুদস্ত হয়নি। এই নেতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পুত্র। এটাও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য স্পষ্ট বার্তা। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব তার পছন্দমতো হতে হবে। জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দখলে নেওয়ার ‘চিন্তাভাবনা’ও নাকি তিনি করছেন। এটি এখনও কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং যুদ্ধের এক পর্যায়ে প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়াতেই মূলত জ্বালানির দাম লাফিয়ে বেড়েছে।

Manual2 Ad Code

খুব কম দেশই জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সিংহভাগ দেশকেই কমবেশি এটি আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশের আমদানি-নির্ভরতাও বিরাট। দেশের ভেতর থেকে কিছু প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোল আর অকটেন অবশ্য পেয়ে থাকি। বাকি পুরোটাই করতে হয় আমদানি। এ ক্ষেত্রে আমরাও হরমুজ প্রণালির ওপর কিছুটা নির্ভরশীল। সেখান দিয়ে সারসহ খাদ্যপণ্যও পরিবাহিত হয়। সেই প্রসঙ্গ অবশ্য চাপা পড়েছে জ্বালানি পরিবহনে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব সামনে আসায়। ইরান অবশ্য মাঝে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাদে সেখানে অন্যান্য নৌযানের ওপর আঘাত হানা হবে না। এতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল। স্বস্তি পুরোপুরি মিলবে বিপর্যয়কর এ যুদ্ধটা দ্রুত শেষ হলে। হরমুজ প্রণালিও তখন সম্পূর্ণ মুক্ত হবে। উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মতো ইরানের জ্বালানি রপ্তানির জন্যও এটি চালু রাখা জরুরি।

ইরানের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে আমরাও সংকটে পড়েছি। নতুন সরকারকে এখানে দায়িত্ব নিয়েই জরুরি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নেমে পড়তে হয়েছে। বিদ্যুৎসহ জ্বালানি ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জ্বালানি দ্রুত ফুরিয়ে যাবে– এমন শঙ্কায় ফিলিং স্টেশনে দেখা দিয়েছে অরাজকতা। জ্বালানি প্রশাসনেরও দায় রয়েছে এতে। সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে যথাযথভাবে তথ্য জোগানো হয়নি বোধ হয়। আমাদের জ্বালানি মজুত তো কখনোই সন্তোষজনক নয়। এটা বড় জোর ‘কাজ চালানোর উপযোগী’। আপৎকালীন মজুত নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি বন্ধের আশঙ্কার খবর রাষ্ট্র হয়ে গেলেও আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা রোধ করা কঠিন। সমস্যাটা সেখানে।

Manual2 Ad Code

শেয়ার করুন