Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাহিত্য যখন প্রতিবাদের ভাষা: বাদলের দীর্ঘ কারাজীবন নিয়ে নতুন আখ্যান ‘বাদলের কারাবাস’

admin

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সাহিত্য যখন প্রতিবাদের ভাষা: বাদলের দীর্ঘ কারাজীবন নিয়ে নতুন আখ্যান ‘বাদলের কারাবাস’

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual4 Ad Code

বর্তমান সাহিত্য অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন অন্যতম আলোচনার বিষয় লেখক রাহিতুল ইসলামের নতুন উপন্যাস ‘বাদলের কারাবাস’। একজন নিরপরাধ মানুষের দীর্ঘ কারাজীবন এবং বিচারিক ব্যবস্থার মারপ্যাঁচে পিষ্ট হওয়ার এক মর্মান্তিক সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করে লেখা এই বইটি পাঠকদের মাঝে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।উপন্যাসটি মূলত বাদল ফরাজী নামক এক যুবকের জীবনের ছায়া অবলম্বনে রচিত। ২০০৮ সালে দিল্লিতে এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ তুলে তাকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। স্রেফ নামের মিল থাকার কারণে নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ ১০ বছর তাঁকে দিল্লির তিহার জেলে বন্দি থাকতে হয়। পরবর্তীকালে ২০১৮ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তবু আইনি জটিলতায় দেশের কারাগারেই তাঁকে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। বাদল ফরাজীর এই করুণ জীবনগাথাকে লেখক রাহিতুল ইসলাম অত্যন্ত দরদ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

অপরাধ না করেও কেবল নামের বিড়ম্বনায় কীভাবে একটি যুবকের স্বপ্ন ও জীবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, তার নিখুঁত চিত্রায়ণ ঘটেছে এই বইয়ে। তিহার জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বাদলকে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হয়েছে দীর্ঘদিন। তাঁর পাশাপাশি একই সাথে তাঁর পরিবারও দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে বাদলের মুক্তির অপেক্ষায় থেকে থেকে পরিবারটির অন্তহীন আর্তনাদ শুধু হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। কেউ শুনতে পায়নি সে হাহাকার। বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক ভুল কীভাবে একটি মানুষের জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে, ‘বাদলের কারাবাস’ বইটি তাঁর উদাহরণ। একই সঙ্গে একজন সাধারণ মানুষের জীবন বলি হওয়ার কঠোর সমালোচনাও রয়েছে এই বইয়ে।

পাঠক ও সমালোচকদের মতে, ‘বাদলের কারাবাস’ কেবল একটি গল্প নয়, বরং এটি চলমান সমাজব্যবস্থার ত্রুটির বিরুদ্ধে লেখকের প্রতিবাদ। লেখক প্রশ্ন তুলেছেন বিচারহীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠকেরা বইটির বিভিন্ন অংশ উদ্ধৃত করে বাদল ফরাজীর মুক্তি ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলছেন। একজন পাঠক মন্তব্য করেছেন, ‘বাদল ফরাজী কোনো কাল্পনিক চরিত্র নয়, সে আমাদের ঘুণে ধরা সমাজ ও বিচার ব্যবস্থার এক জীবন্ত সাক্ষী। এই উপন্যাস পড়ার পর পাঠক হিসেবে নিজেকে অপরাধী মনে হয়।’

Manual4 Ad Code

কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি চেয়েছি বাদল ফরাজীর জীবনের সত্যটা মানুষের কাছে পৌঁছাক। সাহিত্যে যদি বাস্তব জীবনের এই হাহাকার ফুটে না ওঠে, তবে সেই সাহিত্যের সার্থকতা কোথায়? বাদল ফরাজী যেন দ্রুত মুক্তি পান, এটাই আমার পরিশ্রমের মূল উদ্দেশ্য।’

Manual3 Ad Code

যারা সত্য ঘটনা অবলম্বনে জীবনধর্মী সাহিত্য পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘বাদলের কারাবাস’ একটি অবশ্যপাঠ্য বই।

Manual5 Ad Code

শেয়ার করুন