Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমবাপের রেকর্ড, সাকার হ্যাটট্রিকের ১০ গোলের থ্রিলারে ইংল্যান্ডের ব্রোঞ্জ জয়

admin

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
এমবাপের রেকর্ড, সাকার হ্যাটট্রিকের ১০ গোলের থ্রিলারে ইংল্যান্ডের ব্রোঞ্জ জয়

Manual4 Ad Code

স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিরা এসেছিল ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে। তাই ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর সান্ত্বনার ‘তৃতীয় স্থান’ নির্ধারণী ম্যাচ খেলাটা দুই দলের জন্যই ছিল বেশ কষ্টের। ম্যাচের আগে দুই দলের কোচই খোলাখুলি জানিয়ে দিয়েছিলেন—এই ম্যাচ আসলে কেউ খেলতে চায় না। আর সেই অনীহার কারণেই হয়তো দুই কোচের একাদশে ছিল সাতটি করে বদল। আসরে ৬ গোল করা ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে পুরোটা সময় বসে থাকতে হয়েছে বেঞ্চে। তবে মাঠের খেলা শুরুর পর কাগজ-কলমের সব সমীকরণ আর অনীহা উবে গেল। দর্শকদের উপহার দিল এক অবিশ্বাস্য গোল উৎসব।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত এই ম্যাচেই বুঁদ হয়ে রইল ফুটবল বিশ্ব। মায়ামির সেই থ্রিলারে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের করে নিয়েছে থ্রি-লায়ন্সরা।

Manual2 Ad Code

এই ১০ গোলের মহাকাব্যে ওলটপালট হয়ে গেছে বিশ্বকাপের এক গাদা ঐতিহাসিক রেকর্ড।

মাঠের লড়াইয়ে প্রথমার্ধ যদি হয় একচ্ছত্র ইংরেজ শাসন, দ্বিতীয়ার্ধ তবে ছিল ফরাসিদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ম্যাচের শুরুতেই, ঠিক ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে বক্সের বাইরে থেকে ডেক্লান রাইসের বুলেট গতির শটে এই গোল উৎসবের সূচনা।

এরপর ১৮ মিনিটে এজরি কোনসার হেড এবং ৩৭ ও ৪৫+১ মিনিটে বুকায়ো সাকার জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে হারের ধাক্কা সামলাতে না পারা ফ্রান্সকে তখন বড্ড অসহায় লাগছিল।

তবে দ্বিতীয়ার্ধেই খোলস ছেড়ে বের হয় ফরাসিরা। ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান কমায় ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে করা এই গোলের মাধ্যমে লিওনেল মেসিকে টপকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে শীর্ষে চলে যান এমবাপে।

Manual2 Ad Code

এরপর ৫৪ মিনিটে বারকোলার গোল ম্যাচ জমিয়ে তোলে। এর ঠিক ১২ মিনিট পর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৬৬ মিনিটে আবারও ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে লক্ষ্যভেদ করে বিশ্বকাপে নিজের ২২তম গোলটি করেন এমবাপে, যা তাকে নিয়ে যায় বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে (পেছনে ফেললেন মেসির ২১ গোল)।

Manual4 Ad Code

অন্যদিকে, এক বিশ্বকাপে ৭টি অ্যাসিস্ট করে ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের গড়া ৬টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লেখেন মাইকেল ওলিসে।

ম্যাচ যখন ৪-৩ সমতায় এবং ফরাসি ভীতি ইংল্যান্ডকে চেপে ধরেছে, ঠিক তখনই ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি ইংলিশ শিবিরের স্বস্তি ফেরান বুকায়ো সাকা। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা প্রথম খেলোয়াড় এখন সাকা।

Manual7 Ad Code

খেলার যোগ করা সময়ে গোল উৎসবে নাম লেখান দেম্বেলে ও বদলি নামা জুড বেলিংহাম। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। এই জয়ের মাধ্যমে গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য—তৃতীয় স্থান (ব্রোঞ্জ পদক) নিশ্চিত করল ইংলিশরা। অন্যদিকে, পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের হেড কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়টা মোটেও সুখকর হলো না।

রেকর্ড বই বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এর আগে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফ্রান্সের ৬-৩ গোলের ম্যাচটি ছিল শীর্ষে। একই সাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ হিসেবেও জায়গা করে নিল। ফাইনালের আগে ট্রফি না পাওয়ার মঞ্চেও রেকর্ডের পাতায় নতুন ইতিহাস লিখে শেষ হলো ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের বিশ্বকাপ যাত্রা।

শেয়ার করুন